আমাদের গ্রুপ এর সম্মানিত সদস্য এড. মিথিলা আপুর অনুরোধ ক্রমে আজ কের পোস্ট টি দিচ্ছি
আজ কে অল্প বিস্তর কথা বলব #সুনির্দিষ্ট_প্রতিকার_আইন_১৮৭৭নিয়ে
In English it is known as The Specific Relief Act, 1877 {Act No. 1 of 1877)
বাস্তব দেখা থেকে একটা কথা অবশ্য ই বলিতে পারি, যে আইন টা সত্যি ই খুব গুরুত্বপুর্ন… আপ্নি যদি এক্জন সিভিল ল'ইয়ার হতে চান সেক্ষেত্রে এই আইনের জুড়ি নেই..…। সিভিল চেম্বারে সাধারনত যেই ধরনের মামলা গুলো আসে ক্লাইন্টের কাছে থেকে বেশির ভাগ ই এই আইনের মামলা
as for example:
1. উকিল সাহেব আমার সিটি জরিপে আর আর , এস পর্চায় দাগ নাম্বার ভূল ছাপা হইছে !! কি করুম? উত্তরঃ রেকর্ড সংশোধনের মাম লা করে (ধারা ৩১)
2. ও স্যার, আমার মালিকানার সম্পত্তি আমার প্রতিবেশি নিজের বইলা পাড়া মহল্লায় ঢোল পিটাইতাছে …আমি করুম? উত্তরঃ ঘোষনামূলক মাম লা করেন (ধারা ৪২)
3. ভাই গো ভাই, আমার জমিতে চেয়ারমান সাহেবের লোকেরা জোড় পুর্বক বিল্ডিং তুল্তে চাইতেছে? আমি কি কর্ব? উত্তরঃ চিরস্থায়ী নিষেধাগ্গার মাম্লা করেন (ধারা ,৫৪)
4. বন্ধু আমার বড় ভাই আমার নামে এক্টি জালিয়াতির পাওয়ার অফ এটর্নি বানিয়ে আমাদের ভাগের সম্পত্তি নিয়ে নিতে চাইছে…আমি কি কর্ব? উত্তরঃ দলিল বাতিলের মামলা করেন (ধারা ৩৯))
5. সামনে ভ্যালেন্টাইন্স ডে, নিলা কে দেয়ার জন্য এক্টা বিশেষ আংঠি অর্ডার করেছিলাম কিন্তু বিক্রেতা চুক্তি অনুযায়ী আমাকে দেয়ার কথা বলেও এখন আর দিতে চাইছে না। আমার কি প্রতিকার আছে কোন? উত্তরঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার এর জন্য মামলা করুন (১২ ধারা)
এ ত গেল উকিল সাহেবের আত্ম কথা …এক জন জজ সাহেবের কজ লিস্ট এ ত প্রতিদিন ই PH or FH এর স্টেজ এ এই সব মামলা থাকেই....
এবার তাহলে আসল পড়াশুনার যায়্গা তে ফিরে আসি...
এই আইন কার্যকর হয় ১৮৭৭ সালের ১লা মে। এই আইনে চ্যাপ্টার আছে ১০ টি, ধারা আছে ৫৭ টি আর এটি এক্টি তত্বগত (Substantive) আইন
:-) Last amendment of this Act was made on 2004
এই আইনের গুরুত্ব পূর্ন ধারা গুলো হইল,
৫,৮,৯, ১২-১৮, ১৯, ২১, ২২, ৩১, ৩৫, ৩৯, ৪২, ৪৪, ৫২-৫৭
:-)
গ্রুপে অনেকেই এমসিকিউ চাইতে থাকেন বার বার …তাদের জন্য কিছু এমসিকিউ এবার দিচ্ছি উত্তর সহ
প্রশ্নঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন কত সালের এবং কত নং আইন ?
উত্তরঃ ১৮৭৭ সালের এবং ১ নং আইন।
২।প্রশ্নঃ স্থাবর স্পত্তির দখল পূরুদ্ধারের মোকদ্দমা করা হয় কত ধারা মতে ?
উত্তরঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারা মতে।
৩।প্রশ্নঃ স্থাবর স্পত্তির মালিক কর্তৃক স্বত্ত্ব ও দখল উদ্ধারের মোকদ্দমা করা হয় কত ধারা মতে ?
উত্তরঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ও ৪২ ধারা মতে।
৪।প্রশ্নঃ আইনগত পন্থা ব্যাতিরেকে যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে স্থাবর সম্পত্তি হতে দখলচ্যুত হয় তবে সে উহা পুনরুদ্ধারের মোকদ্দমা করতে পারেন ?
উত্তরঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারা মতে।
৫।প্রশ্নঃ জোরপূর্বক স্থাবর সম্পত্তি হতে বেদখল হলে প্রতিকারের জন্য মোকদ্দমা করতে হবে ?
উত্তরঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারা মতে।
৬।প্রশ্নঃ সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করা যায় কত ধারা মতে ?
উত্তরঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১০ ধারা মতে।
৭।প্রশ্নঃ চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যায় কত ধারা মতে ?
উত্তরঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা মতে।
প্রশ্নঃ চুক্তি প্রবলের বা বলবতের মোকদ্দমা করা হয় কত ধারা অনুসারে ?
উত্তরঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা মতে।
৮।প্রশ্নঃ কোন ধারামতে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন আদায় যোগ্য ?
উত্তরঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা মতে।
৯।প্রশ্নঃ আদালত কত ধারার ক্ষমতাবলে চুক্তি পালনের আদেশের সাথে বাদীর জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ মঞ্জুর করে ?
উত্তরঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারা বলে ।
১০।প্রশ্নঃ কোন ধারার বিধান মতে দলিল সংশোধন করা যেতে পারে ?
উত্তরঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারা মতে।
।প্রশ্নঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারা মতে চুক্তি রদ করা যায় ?
উত্তরঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারা মতে।
১২।প্রশ্নঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারা মতে দলিল বাতিলের মোকদ্দমা করা যায় ?
উত্তরঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারা মতে।
১৩।প্রশ্নঃ যে পক্ষের অনুকুলে দলিল বিলুপ্তির রায় হয় সে পক্ষের নিকট হতে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষমতা আদালতের আছে কোন ধারা মতে ?
উত্তরঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪১ ধারা মতে।
১৪।প্রশ্নঃ ঘোষনামূলক মোকদ্দমা করা হয় কোন ধারা মতে ?
উত্তরঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারা মতে।
১৫।প্রশ্নঃ ইনজাংশন কোন ধরনের প্রতিকার ?
উত্তরঃ নিরোধক প্রতিকার।
১৬।প্রশ্নঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৩ ধারার বিধান কি ?
উত্তরঃ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা।
১৭।প্রশ্নঃ কত ধারা মতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা হয় ?
উত্তরঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারা মতে।
১৮।প্রশ্নঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারা মতে আদেশমূলক বা বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা হয় ?
উত্তরঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৫ ধারা মতে।
১৯।প্রশ্নঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারার মোকদ্দমায় কোন বিষয়ের বিচার হয় ?
উত্তরঃ দখলের।
২০।প্রশ্নঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ও ৪২ ধারার মোকদ্দমায় কোন বিষয়ে বিচার হয় ?
উত্তরঃ স্বত্ব ও দখলের ।
২১।প্রশ্নঃ আপনার স্বত্ব কেউ অস্বীকার করলে আপনি কত ধারা মতে মোকদ্দমা করবেন ?
উত্তরঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারা মতে।
২২।প্রশ্নঃ আপনাকে কেউ বেদখলের হুমকি দিলে আপনি কত ধারামতে মোকদ্দমা করবেন ?
উত্তরঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারা মতে।
২৩।প্রশ্নঃ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৩ ধারার বিধান কি ?
উত্তর- অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা।
২৪। প্রশ্নঃকত ধারা মতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা হয় ?
উত্তর– Section 54
*******সুনির্দিস্ট প্রতিকার আইনে কয় ধরনের প্রতিকার পাবেন আপ্নি*******?
Answer: ধারা ৫ – প্রতিকার সমুহ, ৫টি প্রতিকার
১। দখল গ্রহণ, অর্পণ
২। আদেশমূলক
৩। নিষেধমুলক
৪। ঘোষণামূলক (ধারা ৪২)
৫। রিসিভার নিয়োগ (ধারা ৪৪)
Concept of Section 8
সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার। (মালিকানা সত্য প্রমান করতে হবে এবং বিবাদির দখল বাদির প্রতিকূল তাও প্রমান করতে হবে সে অনুযায়ী মামলা হবে),তামাদি ১২ বছর, আপিল রিভিউ করা যায়। সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করা যায়, কোর্ট ফি মুল্যানুপাতিক (advalorem)
concept of Section 9
বেআইনি ভাবে দখলচ্যুত ব্যক্তি কর্তিক মামলা
- সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না
- মালিক না হলেও মামলা করা যায়
- একটানা ৬০ দিন দখলে থাকতে হয়
- তামাদির মেয়াদ ৬ মাস
- স্থাপনা নির্মাণ করা হলে মামলা করা যায় না এবং তামাদি শেষ হলে ৯ ধারার অধীনে মামলা করা যায় না
- সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আপিল, রিভিউ করতে পারে না তবে রিভিশন করা যায়।
***********শাস্তিমূলক আইন কার্যকর করার জন্য সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করা যায় না, কারন এস আর একট শাস্তিমূলক আইন না। (Section 7)
This law is based on equity, good conscience and justice
এত কিছু বল্লাম আর সুনির্দিষ্ট প্রতিকারের সংগ্গা টাই বল্লাম নাহ তা কি আর হয় ঃ
বিচারপতি, সিদ্দিকুর রহমান এর মতে, " এক্টি বিশেষ ধরনের প্রতিকার কেই সুনির্দিষ্ট প্রতিকার বলা হয়। ইহা এই রূপ প্রতিকার যাহা কোন আইন সংগত
বাধ্যবাধকতার সঠিক পরিচালনার লক্ষে পরিচালিত হয়। ইহা এক প্রকার আইন গত প্রতিকার যাহা অন্যান্য প্রতিকার হইতে ভিন্ন ধরনের। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার বলিতে এমন প্রতিকার বুঝানো হয়, যাহা ইকুইটি আদালত মামলা দায়ের কারি ব্যাক্তি গন কে প্রদান করিয়া থাকেন।"
এই আইনে বিচার করার ক্ষেত্রে আদালত সাধারনত নিম্ন লিখিত নীতি গুলো অনুসরন করে থাকেনঃ
(এগুলোর ইংরেজি ভার্সন আমরা সবাই পড়েছি তাই এক্টু নতুনত্ব আনার জন্য বাংলায় নীতি গুলো দিচ্ছি)
১। ন্যায়্পরতা প্রতিকার বিহীন অবস্থায় অন্যায় কে অব্যাহতি দিবে না
২। ন্যায়্পরায়নতা আইন কে অনুসরন করে
৩। বিলম্ব ন্যায় পরতা ব্যার্থ করে
৪। সমতাই ন্যায় পরতা
৫। ন্যায় বিচার প্রার্থী কে অবশ্য ই পরিষ্কার হাতে আবেদন করিতে হইবে
৬। যাহা করা উচিত তাহা করা হইয়াছে বলে ন্যায় পরতা মনে করে
৭। সমান দাবির ক্ষেত্রে যে পক্ষ আগে আসিবে সেই পক্ষ ই আগে প্রাধান্য পাইবে
৮। ন্যায় পরতা ব্যাক্তি আশ্রিত ভাবে কাজ করে
৯। যেই ক্ষেত্রে ন্যায়পরতা দুই পক্ষের জন্য সমভাবে প্রজোয্য সেই ক্ষেত্রে আইনের প্রাধান্য বজায় থাকিবে
good
ReplyDelete