কক্সবাজার সমুদ্র স্মৃতি কথা

নভেম্বর মাসের শুরু। বাসা থেকে খরচের টাকা চলে আসছে।
বাসা ভাড়া, মিলের টাকা, দেয়ার পরও খরচের জন্য হাজার দুয়েক টাকা রয়ে গেল।
কয়দিন ধরেই শান্ত আর শিপনের প্ল্যান চলতেছে কক্সবাজার যাবে নাকি। মিড টার্ম শেষ হলো মাত্র।
হিসাব করে দেখলাম ৫-৬ হাজার টাকা তো লাগবেই। কি করা যায়!! ফুলদার(পুলক)   কাছ থেকে এক হাজার টাকা নিয়ে নিলাম। বলে রাখা ভালো, ফুলদার কাছে সব সময়ই টাকা পাই। বন্ধু শিমুলের কাছ থেকেও এক হাজার টাকা নিলাম।
প্রায় সাড়ে চার-হাজার টাকা নিয়ে যাবার জন্য পুরো রেডি।
বৃহস্পতিবার রাতের উদয়ন (সাড়ে নয়টায়) ট্রেইনে করে রওয়ানা দিলাম সূর্য, শান্ত, শিপন, অরুপ আর আমি।

আমাদের সিট পরলো বগীর মাঝের সিট গুলো। মুখোমুখি সিট। আড্ডা দিতে দিতে রাত কাটিয়ে দিলাম। ঘুমাইসিও অবশ্য।

চিটাগাং রেল ষ্টেশনে পোছলাম সকাল ৭টায়। বসার টিকিট সবসময় পাওয়া যায়না বলে ফিরতি টিকেট কেটে আনলো সূর্য।

চা নাস্তা খেয়ে সকাল নয়টার দিকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম হানিফে।

দুপুর ১২টার দিকে পৌছলাম আমরা। হোটেল বুকিং দিয়ে ফ্রেশ হলাম সবাই।
বাইরে অনেক রোদ ছিলো। বিচে যেতে সবার তেমন ইচ্ছে ছিলোনা।  কিন্তু শিপনের কথায় সবাই রাজী হলো।
খালি পায়ে সি-বিচের দিকে যাত্রা শুরু। হোটেল থেকে সি-বিচ ছিলো প্রায় দুই মিনিটের রাস্তা।

সমুদ্রের জলে ঝাপঝোপ শুরু। এয়ার টায়ারের সাহায্যে শান্ত-শিপন-অরুপ অনেক দুরে গেল। আমি ছবি তুলি, ভিডিও করি। দূরে যাবার সাহস হচ্ছেনা। সূর্য এসে প্রায় জোর করেই আমাকে পাঠালো।  গেলাম তারপর কি হল আর মনে নেই। মানে ভয় সব শেষ। শুধু উপভোগের নেশা। 
শান্ত -অরুপ- আর আমি একটু বেশি দুরেই চলে গেসিলাম। আসার সময় নোনা জল খেতে হইসে।
সাতার জানার পরেও এমন হলো।

প্রায় দুই ঘন্টা ঝাপাঝাপি করে হোটেলে এসে স্নান করলাম সবাই।
ফ্রেশ হয়ে লান্স করলাম পাশের একটা রেস্টুরেন্ট এ

লান্স শেষে আবার বিচে গেলাম। ডাব খেয়ে স্লিপিং চেয়ারে শুয়ে শুয়ে সমুদ্রের ঢেউ দেখতে দেখতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো।

সন্ধ্যার পর রাস্তার পাশের নানা জাতের সামুদ্রিক মাছের দোকান খেয়াল করলাম। সাইমন, টুনা, গোল চান্দা, রুপ চান্দা,কোরাল, কাকড়া সহ অনেক মাছ। পছন্দ মত মাছ কিনলে.. তারা নিজেরাই ভাজি করে দেয়।

আমরা বড় একটা (টুনা) মাছ কিনলাম। ৮-১০ মিনিটের ভেতর পুরো মাছ ভাজা করে দিলো।
সস দিয়ে খাওয়া শুরু। অনেকটা মাংসের মত পুরু মাছের পিসগুলা।

মাছ ভাজা খাওয়া শেষে কোক খেলাম। তারপর হোটেলে এসে যার মত করে রেস্ট নেয়া শুরু।

বলে রাখা ভালো, সন্ধ্যার পরে শিপন আর শান্ত সেন্ট-মার্টিন যাবার জন্য প্যাকেজের টিকেট কেটে আনলো। একটা প্যাকেজের মাধ্যমে যাওয়া-আসা, সকালের নাস্তা, দুপুরের লান্সও আছে।

সকাল ৭টায় বাস।  তারাতারি ঘুমাতে হবে। আর সারাদিনের ধকল শেষে ক্লান্ত ছিলামও সবাই।
ঘুমাতে গেলাম রাত ১০টার দিকে।
সকালে উটতে হবে যে

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.